
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া চারটি অবিস্ফোরিত বিমানবোমা নিষ্ক্রিয় করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর প্রতিবেদনেও কর্তৃপক্ষের বরাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিটগুলো অভিযান চালিয়ে এসব বোমা নিরাপদে অপসারণ করে।
লেবাননের সেনাবাহিনীর কমান্ড-ডিরেক্টরেট অব ওরিয়েন্টেশন এক বিবৃতিতে জানায়, নাবাতিয়েহ অঞ্চলের আব্বা ও হারুফ, টাইর অঞ্চলের বুর্জ শেমালি এবং মারজায়ুন অঞ্চলের দেব্বিন শহরে ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ফেলে যাওয়া চারটি অবিস্ফোরিত বিমানবোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।দিকে লেবাননে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৩০১ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ১৯৯ জন। শুক্রবার (৩ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে গোলাগুলি ও ড্রোন তৎপরতার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল জানায়, নিরাপত্তা অঞ্চলে তাদের বাহিনীর ওপর হামলার জবাবে বিনতে জবেইল জেলায় হিজবুল্লাহর প্রায় ১০টি অবকাঠামোয় বিমান হামলা চালানো হয়েছে।ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় ‘প্রতিশোধের’ আহ্বান জানিয়ে লাল পতাকা বহন করতে দেখা গেছে শোকাহত সমর্থকদের। শনিবার শত শত মানুষের হাতে এ পতাকা দেখা গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, খামেনির অনুসারীরা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে এসব লাল পতাকা তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, যারা তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তারা ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।মোহাম্মদ ইসলামি আরও বলেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা কেবল রাষ্ট্রপ্রধানের মতো একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তার অবস্থান ছিল এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে আসা তীর্থযাত্রীদের আবাসনের জন্য দেশজুড়ে ৫ হাজারের বেশি স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজারের বেশি স্কুল এবং প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রেণিকক্ষ তীর্থযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরানে এক কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে। এছাড়া বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা শেষ বিদায়ে উপস্থিত হয়েছেন।